একটি ভুল রিপোর্ট, ঝুঁকিতে একটি জীবন—চকরিয়ায় সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাফিলতি
ভুল রিপোর্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ, কিন্তু দায় এড়ানো যায় না-
নুরুল ইসলাম সুমন
চকরিয়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল ব্লাড রিপোর্টে ঝুঁকিতে রোগীর জীবন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেওয়া ভুল ব্লাড গ্রুপ রিপোর্টের কারণে এক গর্ভবতী নারীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী এলাকার এক গর্ভবতী নারী, যার জরায়ুর দুই পাশে দুটি টিউমার শনাক্ত হয়, তাকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার—সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তার ব্লাড টেস্ট করা হলে রিপোর্টে তার রক্তের গ্রুপ “O Positive” উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে দ্রুত তাকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। অপারেশনের প্রস্তুতির জন্য আগেই “O Positive” রক্তের ৫ ব্যাগ এবং ২ জন ডোনার প্রস্তুত রাখা হয়। তবে চট্টগ্রামে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা যায়, রোগীর প্রকৃত রক্তের গ্রুপ “O Negative”।
এই গুরুতর ভুলের কারণে অপারেশন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে জটিল হয়ে পড়ে এবং রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে শেষ মুহূর্তে “O Negative” রক্তের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক অবগত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবেরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত সেফা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভুল রিপোর্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের ভুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি ভুল ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট সরাসরি একজন রোগীর জীবন হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্ট উপস্থিত না থেকে অন্য কেউ পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করছেন, যা স্বাস্থ্যখাতে চরম অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় চিকিৎসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এখানে সামান্য ভুলও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো চকরিয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সময়মতো ভুলটি ধরা না পড়ত, তাহলে এর দায় কে নিত? সাধারণ মানুষের জীবন কি এতটাই ঝুঁকির মধ্যে?