চকরিয়ায় চাহিদা মতো ঘুষ না পেয়ে বাদীকে মারধর করেছে এসআই ফারুক
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের চাহিদা মতো ঘুস না দেওয়ায় বাদীকে তুলে নিয়ে মারধর করে জোরপূর্বক স্টাম্পে সাক্ষর আদায়, পুলিশের উপস্থিতিতে বিবাদী পক্ষকে ঘর নির্মাণে সহযোগিতা, জবরদখলে বাঁধা দেওয়ায় নারীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ পরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। এসময় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিএমচর বেতুয়াবাজারস্থ মাতামুহুরি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রফিক (৪৫) এই বিষয়ে প্রতিকার ও বিচার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের মধ্যম চর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকের সাথে স্থানীয় আবু তাহের গংদের বসত ভিটার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিষয়ে চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (নং- ৪৯৫/২৫) বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩ এপ্রিল প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিক পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল দেন। তখন এসআই ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং রফিকের কাছ থেকে খরচের কথা বলে ৩ হাজার টাকা নেন।
বাদীর দাবি, বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ার নাম করে এসআই ফারুক পরবর্তীতে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। রফিক টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ নেন। গত ৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে এসআই ফারুকের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করলে রফিকের পরিবার বাধা দেয়। এসময় এসআই ফারুক নিজেই রফিকের ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা ছোট ভাইয়ের বউকে পেটে লাথি মেরে গুরুতর জখম করেন। এছাড়াও রফিকের স্ত্রী ও বোনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
রফিক জানান, ঘটনার পর তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে বেলা ১১টার দিকে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কাঠের লাঠি দিয়ে উপুর্যপুরি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার তিনটি খালি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আহত রফিকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা শিপা জন্নাত বলেন, আমার ভাসুর রফিককে ধরে নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে, এসআই ফারুক আমার তলপেটে সজোরে লাথি দিলে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। তিনি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত এসআই ফারুক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ১ লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "মোহাম্মদ রফিক আদালতে মামলা করলেও, বিরোধীয় জায়গায় প্রতিপক্ষকে কাজ না করা সম্পর্কে আদালতের কোন আদেশ দেখাতে পারেননি। তাই অপর পক্ষকে বাড়ি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে বলি। ঝামেলা এড়াতে রফিককে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছিল। রাগের মাথায় লাটি দিয়ে একটি বারি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজিদুর রহমান বলেন, " কতটুকু সত্যি জানিনা, তবে যে কথা বলেছে তা খুবই খারাপ কথা বলেছে, ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। সত্যতা নিশ্চিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"