বিচারাধীন মামলায় হস্তক্ষেপ, মারধর ও হুমকির অভিযোগ: পিএমখালী ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে তোলপাড়
নুরুল ইসলাম সুমন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ০৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বিচারাধীন একটি পারিবারিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করে “বিচারের নামে” মারধর, হুমকি এবং চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইমাম শরীফ ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইমাম শরীফ (পিতা: জালাল আহমদ, মাতা: রাবেয়া বেগম, সাং: পরানিয়া পাড়া, পিএমখালী ইউনিয়ন, কক্সবাজার সদর) জানান, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক রেহেনা আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। স্ত্রী রেহেনা আক্তার (পিতা: ছৈয়দ আকবর, মাতা: আমেনা খাতুন, সাং: চাইল্যাতলী, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রামু) ও তার পরিবারের সদস্যদের প্ররোচনায় তাকে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটলে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তার স্ত্রী স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তালাক প্রদান করেন বলে দাবি করেন।
দেনমোহর ও আর্থিক বিরোধ
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তালাকের পর দেনমোহর ও অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বিবাদীপক্ষ তা এড়িয়ে যাচ্ছে। বরং বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে মারধর ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেনমোহর পরিশোধের শর্তে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার কথা বলে তার কাছ থেকে মালামাল ও একটি টমটম গাড়ি বিক্রি করানো হয়। তবে পরবর্তীতে কোনো পক্ষই বৈঠকে উপস্থিত হয়নি।
হামলা ও হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। এরপর একাধিকবার তাকে লক্ষ্য করে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪টার দিকে পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে ০৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোহাম্মদ আলী তাকে মারধর করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাকে “চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
বিচারাধীন মামলায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, কোনো বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকলে সে বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জোরপূর্বক সালিশ বা বিচার করা আইনসম্মত নয়। এ ধরনের হস্তক্ষেপ আদালতের এখতিয়ারে অনধিকার প্রবেশ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং শারীরিক নির্যাতন ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে।
নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার
বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীকে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বাচ্চা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাকে ডাকা হয়েছিল।” তবে মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।