নুরুল ইসলাম সুমন
জীবন অনেক সুন্দর। কখনো কখনো মৃত্যুর মতোই রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর সুন্দর। কিছু লেখা আছে, যা পড়তে পড়তে হঠাৎ থমকে যেতে হয়—মনে হয়, কী পড়লাম! সত্যিকারের লেখা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন শেষ করার পরও মনে এক ধরনের হাহাকার থেকে যায়।
ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে আমার সখ্য। শুরুটা হয়েছিল সেবা প্রকাশনীর বই দিয়ে। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বয়সভিত্তিক বই পড়তে পড়তে বইপড়া আমার প্রতিদিনের জীবনের এক অনন্য আনন্দ হয়ে ওঠে। আমার পড়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে—আমি যখন যে বই পড়ি, যেন তার ভেতরেই বসবাস শুরু করি। তাই বইয়ের প্রভাব আমার জীবনে গভীর। বইয়ের মতোই কোনো মুভি দেখতে গেলেও তাতে ডুবে যাই।
আমার আরেকটি স্বভাব—সহজেই আবেগে ভেসে যাই। কান্নাকাটি করার বাতিক আছে বলা যায়। তবে বই পড়ে আকুল হয়ে কেঁদেছি মাত্র দুইবার। বিখ্যাত জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির ‘নরওয়েজিয়ান উড’ পড়ার সময় নিজেকে সামলাতে পারিনি। বইটি শেষ হয়ে গেছে—এই উপলব্ধি আসতেই চোখের জল অঝোরে নেমে এসেছিল।
সম্প্রতি টানা তিন দিনে, ফাঁকে ফাঁকে সময় বের করে পড়া শেষ করলাম হীরামনি (মারুফা সুলতানা) রচিত ‘বড়বেলার স্কুলজীবন’। এটি পুরোপুরি আত্মজীবনী নয়, আবার ভ্রমণকাহিনিও নয়—বরং সময়ের কিছু টুকরো স্মৃতির সমষ্টি, যেখানে আনন্দ আর বিষাদ পাশাপাশি হেঁটে চলে। বইটির বর্ণনায় এমন কিছু প্রিয় বিষয় আছে, যা পড়তে পড়তে মনে আরাম এনে দেয়। ভাষা সহজ, সাবলীল এবং আন্তরিক। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল—এই সময়গুলো যেন আমিও নিজে অতিক্রম করেছি।
যখন কোনো বই পাঠককে এভাবে আঁকড়ে ধরে, তখন বইপড়া এক অন্য মাত্রা পায়। চারপাশের হাজারো শব্দ, ব্যস্ততা আর সময়ের দ্রুতগতির ভিড়ে বই যেন ভোরের হাওয়ার মতো কোমল এক প্রশান্তি এনে দেয়। মুহূর্তেই মনোযোগকে এক বিন্দুতে স্থির করে ফেলে।
সকালের রোদ, গরম চায়ের উষ্ণতা আর নীরব সময়কে সঙ্গী করে পড়া হয়ে গেল হীরামনির এই বইটি।
বই: বড়বেলার স্কুলজীবন
লেখক: হীরামনি (মারুফা সুলতানা)
প্রকাশনী: মায়ান প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: পাভেল
প্রকাশকাল: ২০২৫
মূল্য: ৬৭৫ টাকা।